সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দিরাইয়ে ৬ দোকান পুড়ে ছাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন এমপি কামরুজ্জামান কামরুল রোদের দেখা মিললেও হাওরে বন্যার শঙ্কা কাটেনি আজ মহান মে দিবস তাহিরপুরে ভাঙারখাল নদীর উপর টোল-ফ্রি বাঁশের সেতু নির্মাণ, স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে ৬৪৭৬ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল ডিসি সম্মেলন শুরু ৩ মে, থাকছে ৪৯৮ প্রস্তাব সুনামগঞ্জসহ ৫ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উদযাপিত জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেল ছায়ার হাওর কাটা ধানে গজাচ্ছে চারা জলাবদ্ধতায় ডুবছে হাওরের ধান, অসহায় কৃষক হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিরাইয়ে পৃথক দুই সংঘর্ষে আহত ৪০ হাওর বাঁচাতে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তোলপাড় লোকবলের অভাবে চালু হচ্ছে না আইসিইউ, আড়াই বছর ধরে কক্ষ তালাবদ্ধ অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডুবছে জমির ধান চরম দুর্দশায় হাওরের কৃষক জামালগঞ্জে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত

সরকারি হাসপাতালে ডায়াবেটিসের ওষুধ সংকট দ্রুত নিরসন করুন

  • আপলোড সময় : ১২-০১-২০২৬ ০৯:১০:১৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১২-০১-২০২৬ ০৯:১০:১৫ পূর্বাহ্ন
সরকারি হাসপাতালে ডায়াবেটিসের ওষুধ সংকট দ্রুত নিরসন করুন
সুনামগঞ্জের হাসপাতালগুলোতে ডায়াবেটিসের ওষুধ সংকট কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় - এটি একটি গভীর ও নীরব জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের স্পষ্ট আলামত। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোর এনসিডি কর্নারে গত ডিসেম্বর থেকে ডায়াবেটিসের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ মেটফরমিন ও গিক্লাজাইডের সরবরাহ বন্ধ বা চরমভাবে সীমিত। ফলে প্রায় ২৬ হাজার ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। ডায়াবেটিস কোনো সাধারণ রোগ নয়; এটি নিয়মিত ও ধারাবাহিক চিকিৎসা ছাড়া ভয়াবহ জটিলতায় রূপ নিতে পারে- কিডনি বিকল হওয়া, হৃদরোগ, স্ট্রোক কিংবা দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো পরিণতি অনিবার্য হয়ে ওঠে। সেই রোগের জন্য যখন সরকারি ব্যবস্থায় বিনামূল্যের ওষুধ হঠাৎ উধাও হয়ে যায়, তখন সেটি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনের প্রতি চরম অবহেলার নামান্তর। সরকার এনসিডি কর্নার চালু করেছিল অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। মাসিক কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র রোগীরা নিয়মিত ওষুধ পাবেন- এই আশ্বাসেই হাজারো মানুষ হাসপাতালমুখী হয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, প্রকল্প বন্ধ হওয়া, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা আর দায়িত্বহীন সমন্বয়ের কারণে সেই আস্থাই এখন ভেঙে পড়ছে। আরও উদ্বেগজনক হলো- এই সংকট নতুন নয়, কয়েক মাস ধরে চলছে। অথচ কার্যকর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা বা জরুরি উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। তিনটি উপজেলা হাসপাতালে একেবারেই ডায়াবেটিসের কোনো ওষুধ নেই - এ তথ্য শুধু আতঙ্কজনক নয়, লজ্জাজনকও বটে। একজন দরিদ্র রোগীর পক্ষে নিয়মিত বাজার থেকে ওষুধ কেনা প্রায় অসম্ভব। ফলে চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় রোগ বাড়ছে, জটিলতা বাড়ছে, মৃত্যুঝুঁকিও বাড়ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন- একটি জাতীয় জনস্বাস্থ্য প্রকল্প বন্ধ হলে তার বিকল্প প্রস্তুতি কেন নেওয়া হয়নি? ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের ওপর পুরো সরবরাহ নির্ভরশীল করে রেখে কেন বিকেন্দ্রীকৃত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি? মাসের ওষুধ কমে ১৫ দিনে নামিয়ে আনা কি সংকট সমাধান, নাকি সংকট আড়াল করার কৌশল? ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে ওষুধের ধারাবাহিকতা ভাঙা মানে রাষ্ট্র নিজেই রোগীকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ অবস্থায় অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে মেটফরমিন ও গিক্লাজাইড সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এনসিডি কর্নারের জন্য আলাদা ও টেকসই বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে। সরবরাহ ব্যবস্থার দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। দরিদ্র ও কার্ডধারী রোগীদের জন্য বিকল্প ওষুধ বা বিশেষ সহায়তা চালু করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা দয়া নয়, এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। ডায়াবেটিসের ওষুধ সংকট দ্রুত সমাধান না হলে এর মূল্য দিতে হবে হাজারো অসহায় মানুষকে - যার দায় কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স